‘এটা বাইডেনে বা আমার নয়, আমেরিকার আত্মার জয়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিস।
ডেমোক্র্যাটদলীয় প্রার্থী জো বাইডেন বেসরকারিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতি’ক্রি’য়ায় হ্যারিস একটি বিবৃতি ও ভিডিও প্রকাশ করেন।সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই নির্বাচন জো বাইডেন অথবা আমার জন্য অনেক বেশিকিছু ছিল। এটা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আত্মিক বিষয়। এটার জন্য আমরা লড়াই করেছি। আমাদের সামনে এখন অনেক কাজ পড়ে আছে, আসুন শুরু করি।’এদিকে শনিবার রাতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পর টুইট করে কমলা হ্যারিস বলেন, ‘এটা আমার বা জো বাইডেনের নয়, আমেরিকার আত্মাও আমাদের ল’ড়া’ই করার মানসিকতার জয়। এখন আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। এবার সেগুলো শুরু করা যাক।’ভোটগণনা শুরুর পরই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।ফলাফল প্রকাশের পরই টুইট করে দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান জো। তিনি লেখেন, ‘আমেরিকা, আমাদের মহান এই দেশের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আমাকে বেছে নেয়ায় গর্বিত বোধ করছি। আমাদের কাজ শক্ত হলেও আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে সবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করব। সে আপনি আমাকে ভোট দিন আর না দিন।’উল্লেখ্য, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আমেরিকায় নতুন এক ইতিহাসের সৃষ্টি করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৬ বছরের সিনেটর কমলা। মার্কিন রাজনীতিতে নজির গড়ে এই প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসলেন কোনো কৃষ্ণাঙ্গ নারী।কে এই কমলা হ্যারিস কমলার বাবা ডোনাল্ড হ্যারিস জ্যামাইকান। কমলার মা ক্যান্সার গবেষক শ্যামলা গোপালান, ভারতীয় এক কূটনীতিকের মেয়ে। ১৯৬৪ সালের ২০ অক্টোবর ওকল্যান্ডে তার জন্ম। কমলার নামের শেষাংশ বাবার কাছ থেকে নেয়া; প্রথমটুকু মায়ের দেয়া।যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি পড়ার পর কমলা হেস্টিং কলেজ থেকে আইনে ডিগ্রি নেন। ১৯৯০ সালে তিনি ওকল্যান্ডে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০৩ সালে তিনি সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হন; ২০১৪ সালে পুনঃনির্বাচিত হন।২০১৬ সালের সিনেট নির্বাচনে লোরেটা সানচেজকে পরাজিত করে বারবারা বক্সারের উত্তরসূরী হন। এর ফলে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার তৃতীয় নারী সিনেটর হওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় আফ্রিকান-মার্কিন নারী এবং প্রথম দক্ষিণ-এশীয় বংশোদ্ভূত মার্কিনি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটে দায়িত্ব পালন করেন।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *