`কুকুর ঘুমাইতে পার‌লেও আমরা পা‌রি না’

‘কুকুর ঘুমাইতে পারলেও আমরা পারি না’- কমলাপু‌র রেলও‌য়ে স্টেশ‌নের প্লাটফর্মের ভেতরে রাত কাটাতে না পারায় ক্ষোভটা এভাবেই প্রকাশ করছিলেন মুন্সীগঞ্জের আমজাদ হোসেন। কাজের খোঁজে এক মাস আগে মুন্সিগঞ্জ এসেছিলেন তিনি। ভাগ্যের ফেরে কোন কাজ না জুটাতে পারায় তল্পিতল্পা গুটিয়ে বাড়ির পথ ধরতে হচ্ছে তার। সকালের ট্রেন ধরেই ফিরবে নিজের বাড়ি দেওয়ানগঞ্জে। কিন্তু রাতে সাড়ে ১২টা নাগাদ তাকে দেখা গেল প্লাটফর্মের বাইরের রাস্তায় শুয়ে আছে।শীতের রাতে কেন এভাবে শুয়ে আছে, জানতে চাইলে তিনি ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘কুকুর ভিতরে শুয়ে আছে। কিন্তু আমরা মানুষ হয়েও বাহিরে শুয়ে থাকতে হচ্ছে। সারারাত এখানে থাকতে হবে। ভোর চারটার আগে ভেত‌রে ঢুক‌তে দি‌বে না। সকাল হ‌লে ট্রেনের টিকিট কেটে বাড়ি চলে যাব বলে শুয়ে আছি।’

হোটেল বা রুম ভাড়া করে থাকছেন না কেন? জানতে চাইলে দিনমজুর আমজাদ ব‌লেন, আমরা গ‌রিব মানুষ দিন আনি দিন খাই। আমরা কি হোটেল ভাড়া ক‌রে থাক‌তে পার‌বো। একটু ভেত‌রে (প্লাটফর্মের ভিতরে) থাক‌লে কি সমস‌্যা হ‌তো?প্লাটফর্মের ভেতরে থাকলে শীতের হাওয়াটা কম পেতো তারা। কিন্তু রাত ১২টার পরে সেখানে ঢোকার নিষেধাজ্ঞা থাকায় আশ্রয় খুঁজতে হচ্ছে বাইরের রাস্তায়। ক্ষোভ প্রকাশ করে আমজাদ প্রশ্ন রাখেন, য‌দি ধ‌নী মানুষ হয়তাম তাইলে কি আর স্টেশ‌নে রাত থাকতাম? যেখা‌নে কাজ ক‌রে‌ছি সেটাও অনেক দূ‌রে। কই যা‌বো! তাই বাধ‌্য হ‌য়ে রাস্তায় শু‌য়ে আছি ।বৃহস্পতিবার ( ২৬ নভেম্বর ) রাতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের বাহিরে শুধু আমজাদ হোসেনই নয়, সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শুয়ে-ব‌সে মানবেতর রাতযাপন করছিলেন আরো অনেকে। শীতের দীর্ঘ রাতটা তাদের সেখানেই জড়সড় হয়েই কাটাতে হবে।

জানতে চাইলে স্টেশনের নিরাপত্তাকর্মী রুবেল আহমেদ ব্রেকিংনিউজকে বলেন, রাত বারোটার পরে স্টেশনের ভেতরে ঢোকা নিষেধ। কারণ রাত বারোটার পরে কোন ট্রেন ছাড়ে না। আবার ভোর চারটার পরে সবাই ঢুকতে পারবে।ঠিক কি কারণে তাদের ঠুকতে দেয়া হচ্ছে না, জানতে চাইলে তিনি ব‌লেন, এম‌নি‌তে ক‌রোনার সমস‌্যা তারপ‌রে এই মানুষগু‌লো যারা ভেত‌রে থা‌কে তারা ক‌য়েল ধ‌রি‌য়ে ঘুমায়। সেই ক‌য়ে‌লের আগু‌নে কিছুদিন আগে দুইটা দোকান পুড়ে গে‌ছে। তাই আর কাউকেই রাত ১২ টার প‌রে ভেত‌রে ঢুক‌তে দেওয়া হয় না।অসুস্থ মানুষ থাকলে সেক্ষেত্রে কি করেন জানতে চাইলে ওই নিরাপত্তারক্ষী বলেন, বেশি অসুস্থ থাকলে আমরা কোনো একটা ব্যবস্থা করি। কিন্তু উপরমহল থেকে আমাদের যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমরা সেই মতই কাজ করি।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *