কোন ধর্মে কী কী খাওয়ার নিষেধ রয়েছে?

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন রয়েছে খাদ্য ও পানীয়ের। তবে বিশ্বজুড়ে সব ধর্মের মানুষের খাবারের উপর রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বিধিনিষেধ। ধর্ম হলো তাই যা মানুষ ধারণ করে। আর সেই ধারণের প্রশ্ন থেকেই ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের এড়িয়ে চলতে হয় বেশ কিছু খাবারের। তবে কোন ধর্ম তাদের অনুসারীদের কি খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তা জানবো।

ইসলাম ধর্ম: ইসলাম ধর্মে শূকরের মাংস খাওয়া হারাম। এছাড়া বেওয়ারিশ পশুপাখির মাংস এবং পশুপাখির রক্ত পান করা হারাম। পবিত্র এই ধর্মটি তাদের বিধানে মাছ ব্যাতিত সবধরনের জলজ ও মৃত প্রানী ভক্ষণ করাতে নিষেধ করেছে। এই ধর্মে মদ পান করাকে মহাপাপ বলে চিহ্নিত করে থাকে।

হিন্দুধর্ম: গরুকে ‘পবিত্র মাতা’ বলে থাকেন এই ধর্মের অনুসারীরা। সেজন্য পবিত্র এই ধর্মমতে গো-হত্যা নিষিদ্ধ এবং গো-মাংস ভক্ষণ করাও নিষিদ্ধ। এছাড়া হিন্দুদের একটি বড় অংশ নিরামিষ ভোজন করে থাকেন।

ইহুদি: ইহুদিরা যা খেতে পারবে তাকে তারা কোশার বলে থাকে এবং তাদের ধর্মে নিষিদ্ধ খাবারকে ক্রেফা বলে থাকে। যেসব প্রাণীর পায়ের খুর পুরোপুরি চেরা এবং যারা জাবর কাটে ( গরু, ছাগল কিংবা ভেড়া) সেসব প্রাণী তারা খেতে পারবে। এর ব্যাতিত কোনো প্রাণী তারা খাবার হিসেবে গ্রহণ করেন না (ঘোড়া কিংবা শূকর)। ইহুদিদের খাবারের তালিকায় থাকা মাছের আঁশ ও পাখনা না থাকলে সেটা তাদের জন্য নিষিদ্ধ।

বৌদ্ধধর্ম: পবিত্র এই ধর্মটিতে সব ধরণের মাংস, এমনকি মাছ ভক্ষণ করাও সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। এই ধর্মের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন, কোনো প্রাণিসত্তার মৃত্যুর জন্য তাদের দায়ী হওয়া উচিৎ নয়। সে কারণে তারা পুরোটাই নিরামিষভোজী।

শিখ: ইসলাম ও ইহুদিদের মতো এই ধর্মের অনুসারীরাও শূকরের মাংস খান না। সেই সঙ্গে হালাল মাংসও তাদের কাছে নিষিদ্ধ।শিখ ধর্মে অন্য কোনো ধর্মের ধর্মাচারে অংশগ্রহণ করা তাদের জন্য নিষিদ্ধ। এ কারনে তাদের খাবারের তালিকায় প্রাণীদের মাংস নিষিদ্ধ থাকে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *