চাই দ্বীনদার মসজিদ কমিটি

মসজিদ আল্লাহর ঘর। আমরা দৈনিক পাঁচবার আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে মসজিদে হাজির হই। নবী কারিম (সা.) মদিনায় গমন করেই মসজিদে নববী গড়ে তুলেছিলেন।মসজিদে নববী ছিল ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার স্থল, মামলা মোকদ্দমার মীমাংসা ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু।শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; বরং প্রতিটি মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মসজিদ।

আমাদের দেশে মসজিদগুলো পরিচালনার জন্য প্রতিটি মসজিদেরই একটি সুনির্দিষ্ট কমিটি রয়েছে। একজন অমুসলিম যেমন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য হতে পারে না তেমনি বড় ধরনের ইসলামবিচ্যুত কাজে জড়িত এমন কোনো ব্যক্তিও মসজিদ কমিটির সদস্য হতে পারেন না।পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা মসজিদ কমিটির সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদগুলো আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ইমান রাখে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, তারা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (সূরা তাওবাহ, আয়াত-১৮)।

আয়াতে আবাদ শব্দ দ্বারা মসজিদ পরিচালনার বিষয়টিও বোঝানো হয়েছে। কে বা কারা মসজিদ পরিচালনা করবে তা সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে (ইবনে কাসির : ১/২৭০)। বড়ই পরিতাপের বিষয় এই যে, আমাদের সমাজের অধিকাংশ মসজিদের কমিটির অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত।দেশের অধিকাংশ মসজিদের কমিটিগুলো দখল করে আছেন বেনামাজি, সমাজের অসৎ চাঁদাবাজ, কালোবাজারি, দুর্নীতিবাজ, সুদখোর, ঘুষখোর মানুষরা। লজ্জার বিষয় হলেও সত্য যে, এসব অসৎ অযোগ্য লোকেরাই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে নিয়মিত দুর্ব্যবহার করেন এমনকি তাদের ভুল-ত্রুটি ধরার জন্য সব সময় উদগ্রীব হয়ে থাকেন।

কখনো কখনো তাদের মতের সঙ্গে মিল রেখে ওয়াজ-নসিহত করার জন্য ইমাম-খতিবকে বাধ্যও করে থাকেন। লক্ষ করলে দেখা যায়, মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যাপারে কমিটির লোকজন যতটা সজাগ থাকেন ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বেতন-ভাতার বিষয়ে তারা ততটা অসচেতন থাকেন।অর্থাভাবে ইমাম-মুয়াজ্জিনের মানবেতর জীবনযাপনের কারণে আলেমরা ইমাম-খতিব হওয়ার দিকে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এর ফলে জাতি যোগ্য ইমাম-খতিব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মসজিদগুলোতেও ক্রমেই দেখা দিচ্ছে নৈতিক অবক্ষয়।

মসজিদ কমিটির সদস্যদের জন্য মসজিদ পরিচালনা সংক্রান্ত জ্ঞান থাকা ফরজ, সেখানে কমিটির অনেক সদস্যের ইসলামের ন্যূনতম ফরজ জ্ঞানটুকুও নেই। মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব ফিরে পেতে চাইলে রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহের আদলে মসজিদকে গড়ে তুলতে হবে।মসজিদ কমিটি দ্বীনদার, সৎ, যোগ্য, আমানতদার, সুশিক্ষিত, জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিয়ে গঠন করতে হবে। পাশাপাশি ইমাম-খতিবরা যেন স্বাধীনভাবে দ্বীনের কাজ পরিচালনা করতে পারেন সে সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *