দুধের অভাবে পানি খাচ্ছে ৩ মাসের শিশু

জন্মের পরই মারা গেছেন মা! মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধূলিহর ইউনিয়নের তিনমাস বয়সী শিশু আবু হুরাইয়া জিমের। সেই থেকে বাবা আলামিন ফিরেও দেখেননি কখনো। মামির কাছে থাকে শিশু আবু হুরাইরা জিম। ডাক্তারি পরামর্শে প্রথম দুইমাস শিশুটিকে স্বাস্থ্যসম্মত গুড়া দুধ খাওয়ালেও বর্তমানে দারিদ্রতার কারণে গুড়া দুধ খাওয়াতেও হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি। কোনদিন একবেলা গুড়া দুধ, অপরবেলা দুধের বদলে পানিতে ময়দা, আবার কখনই-বা দুধ ময়দা ক্রয়ের অর্থ না থাকাই পুরোদিন পানির সঙ্গে চিনি মিশিয়ে গত একমাস এভাবেই শিশুটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন মামি চম্পা খাতুন।

সরেজমিনে জানা গেছে, আবু হুরাইরা জিমের জন্মের সময় মারা যান মা রেশমা খাতুন। মায়ের মৃত্যুর পর শিশু আবু হুরাইরা জিমের পাশে আসেননি বাবা আলামিন হোসেন। সেই থেকে ইউনিয়নের ভালুকা-চাঁদপুরের শফিকুল ইসলামের ছেলে দীনমুজুর মামা আব্দুল হাকিমের সংসারে মামি চম্পা খাতুনের কাছে আছে জিম। পরিবারের ৯ জন মানুষের সংসারে একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি আব্দুল হাকিম শিশুটির দৈনিক তিনশ টাকার দুধ যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ কারণে দুধের বদলে কখনো ময়দা আবার কখনই-বা পানির সঙ্গে চিনি-মিশ্রি মিশিয়ে খেতে দেওয়া হচ্ছে শিশুটিকে।

এ বিষয়ে শিশুটির মামা আব্দুল হাকিম বলেন, আবু হুরাইরা জিমের মায়ের দুধ খাওয়ারও সৌভাগ্য হয়নি। ডাক্তারের পরামর্শে প্রথমত গুড়া দুধ খাওয়ালেও বর্তমানে অর্থাভাবে সেটিও খাওয়ানো হচ্ছে না।

শিশুটির মামি চম্পা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ডে জানান, শিশু আবু হুরাইরা জিমের মা মারা যাওয়ার পর থেকে তাকে মাতৃস্নেহে রেখেছি। নিজেরা না খেয়ে তার জন্য দুধ ক্রয় করেছি। তবে শিশুটির দৈনিক চাহিদার যোগান মেটানো আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে সমাজের মানবিক মানুষের কাছে অনুরোধ করবো তারা যেনো শিশু হুরাইরার স্বাস্থ্যসম্মত দুধের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে কিছুটা হলেও সাহায্য করেন।

আবু হুরাইরা জিমের নানা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মারা যান। তবে দারিদ্রতার কারণে জিমের জন্য প্রতিনিয়ত গুঁড়া দুধ কেনা সামর্থ্যের বাইরে। এ জন্য মাঝে মাঝে দুধের সাথে অতিরিক্ত পানি, কখনো বা মিশ্রী ও ময়দা মিশ্রিত পানি জিমকে খেতে দেওয়া হয়। এতে জিম মাঝে মাঝে অসুস্থ্য হয়ে যায়।

ধূলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (বাবু সানা) বলেন, জন্মের পরেই শিশুটির মা মারা যান আর তার বাবা তাকে ফেলে রেখে চলে যায়। শিশুটির দৈনিক দুধের চাহিদার যোগান দেওয়াটা পরিবারটির পক্ষে অসম্ভব। পরিষদের পক্ষ থেকে তাদেরকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। তারপরেও স্ব-স্ব অবস্থান থেকে শিশু আবু হুরাইয়া জিমের দুধের ঘাটতি পূরণ করতে পরিবারটিকে সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ করছি।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *