না,রী,দের কু,স্তি দেখতে যে দেশে ভিড় জমায় পর্যটকরা

কু,স্তি লড়াকে পুরুষদের খেলা হিসেবে দেখা হলেও বলিভিয়ায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ‍কু,তির মঞ্চে দাপুটে ভূমিকা দেশটির আয়মারা ভাষাগোষ্ঠীর না,রীদের।কয়েক দশক ধরে ফ্যাশনের জন্য বিশ্বজুড়ে নাম করেছে আয়মারা ভাষাগোষ্ঠির না,রী,রা। যারা ‘চোলিতা’ নামে পরিচিত।জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানায়, জমকালো পোশাক রং বেরঙের টুপি ছাড়াও, গত কয়েক বছর ধরে চোলিতারা বিখ্যাত হয়ে উঠছেন তাদের বিশেষ কু,স্তি,র কায়দার জন্য।

‘চেলা’ শব্দটি প্রাথমিকভাবে গালি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও আয়মারা গোষ্ঠীর চোলিতারা নতুন করে এই শব্দের অর্থ দাঁড় করাচ্ছেন।স্থানীয় ভাষায় ‘চোলা; শব্দের অর্থ গরীব আদিবাসী, যা এতদিন ব্যবহৃত হতো বিদ্রুপাত্মক ক্ষেত্রে। ২০০৫ সালে প্রথমবার দেশের প্রেসিডেন্ট হন আদিবাসী ইভো মোরালেস। এরপর থেকেই নতুন করে সাহস পান দেশের পিছিয়ে পড়া, বৈষম্যের শিকার বহু গোষ্ঠি, যার অন্যতম এই আয়মারাভাষী চোলিতারাও।

অনেকদিন মূলত পুরুষদের জন্যই ছিল কুস্তির মঞ্চ। কিন্তু এখন এই চোলিতারা দখল নিচ্ছেন কুস্তির আখড়ার। অনেক চোলিতাই বলিভিয়ায় কুস্তি লড়ে আসছেন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে।করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বন্ধ করেছিল প্রকাশ্যে চোলিতাদের কুস্তি প্রদর্শন। দীর্ঘ নয় মাস পর আবার নতুন করে চালু হয়েছে কুস্তির খেলা দেখানো। কিন্তু আগের মতো পর্যটক বা স্থানীয়দের ভিড় হচ্ছে না।

কুস্তিগির পাত্রিসিয়া টোরেস রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাকে প্রমাণ করতে হবে যে, আমি একজন ভালো কুস্তিগির। আমাকে দেখাতে হবে যে, আমি শুধু কুস্তির ময়দানেই নয়, জীবনেও বিজয়ী হয়েছি, এই মহামারির সময়েও বিজয়ী হয়েছি। এতদিনে যা হারিয়েছি, তা আমরা ফেরাবোই।’

পাত্রিসিয়া টোরেস গত দশ বছর ধরে কুস্তি লড়ছেন। দুই সন্তানের মা নিজের ব্যবসাও সামলান দক্ষ হাতে। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সব কাজ সামলেও ব্যবসা, বাচ্চাদের পড়াশোনা ও নিজের কুস্তি সামলাতে পারি।’বলিভিয়ার পর্যটনশিল্পের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন চোলিতারা। দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকেরা আসেন চোলিতাদের কুস্তি দেখতে। মহামারির পর বর্তমানে আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এই শিল্প।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *