পাঁচ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ২৫ হাজার কোটি টাকা

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৮৬৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। আর এসময়ে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৮৭ হাজার ৯২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। রাজস্ব আহরণের এ পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বা ২ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বেশি। তবে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আহরণ হয়েছে ২৩ শতাংশ কম।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর রাজস্ব আহরণের বিবরণী (সাময়িক) প্রতিবেদন বলছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১২ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

সেখানে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে নভেম্বর পর্যন্ত আমদানি ও রফতানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা, স্থানীয় পর্যায়ে মূসক ৩৩ হাজার ৪৪৬ কোটি এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর ২৫ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রার ৭৭ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে আমদানি ও রফতানি পর্যায়ের রাজস্বে, প্রায় ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে মূসক আদায়ে, শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া আয়কর ও ভ্রমণ কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বুধবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৬তম বৈঠক শেষে রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় ও এ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর জন্য আমরা একটি সুপরিকল্পিত বাজেট দিয়েছি। রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোথাও খুব বেশি প্রবৃদ্ধি দেখবেন না।তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক পরিস্থিতি বিরাজমান রয়েছে। এ মহামারি পরিস্থিতির মধ্যে রাজস্ব আদায়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি এ ধারা অব্যাহত থেকে পরিস্থিতি আরো উন্নতি হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা সমর্থ হব।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফেসবুক-ইউটিউবসহ অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়া থেকে রাজস্ব আদায় হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান যখন ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা আনে, তখন সেখান থেকে রাজস্ব কাটা হয়। তবে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হলে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় সম্ভব হয় না।তারা এর সমাধানে বলছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সোস্যাল মিডিয়া ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে রাজস্ব আদায়ে গতি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণে গতি আনতে করের আওতা বাড়ানো প্রয়োজন। এনবিআরের বিভিন্ন প্রকল্প অটোমেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষ লোকবলের অভাব রয়েছে।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। এছাড়া আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি ও আমদানি শুল্ক থেকে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আহরণে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে ছিল এনবিআর। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় প্রায় ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয় প্রথম প্রান্তিকে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩ হাজার ৭১৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ সময় রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৯ হাজার ৯৮৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৭২৪ কোটি ৬ লাখ টাকা।এনবিআরের হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি আদায় হয় ভ্যাট খাত থেকে। এ খাতে আদায় হয়েছে ১৮ হাজার ১১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আর আয়কর ও ভ্রমণ খাতে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আয়কর খাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৭১০ কোটি ১১ লাখ টাকা, এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ৯১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *