পানি বাঁ’চাতে আজ ১০ হাজার উট গু’লি করে মা’রা হবে অস্ট্রেলিয়ায়

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় খরাপ্রবণ এলাকায় বেশি পরিমাণে পানি খাচ্ছে সেখানকার উটগুলো। এছাড়া মিথেন গ্যাস সৃষ্টির পেছনেও এই উটগুলোকেই দায়ী করা হচ্ছে। যে কারণে গু’লি করে ১০ হাজার উট হ’ত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) এমন তথ্যই জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের আনানজু পিতজানৎজাতজারা ইয়ানকুনিৎজাতজারা ল্যান্ডস (এওয়াইপি) এলাকার এক আদিবাসী নেতা এ নির্দেশ দিয়েছেন।

এক আদিবাসী নেতার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আদেশ আসার পর উটগুলো মা’রার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বুধবার হেলিকপ্টার থেকে বন্য এ উটগুলোকে গু’লি করে মা’রার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রশিক্ষিত শুটার দিয়ে এ উটগুলো মা’রতে কয়েকদিন সময় লেগে যেতে পারে বলে জানা গেছে।

এতগুলো উট একসঙ্গে মা’রার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চল খুবই খরাপ্রবণ এলাকা। যে কারণে এ অঞ্চলে পানির খুব সংকট রয়েছে। বন্য এই উটগুলো খুব বেশি করে পানি খেয়ে নিচ্ছে। পানির খোঁজে তাদের বিচরণের কারণে সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া মিথেন গ্যাস সৃষ্টির জন্যও দায়ী তারা।

এওয়াইপির নির্বাহী বোর্ডের সদস্য মা’রিতা বেকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, আম’রা যে অঞ্চলে থাকি সেখানে খুব গরম পড়ে। খুবই অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যে আছি। এর মধ্যে উটগুলোর উৎপাত আমাদের বিষিয়ে তুলেছে। তারা পানির জন্য ঘরবাড়িতে হানা দিচ্ছে, বেড়া ভেঙে দিচ্ছে। ক্ষেত মাড়িয়ে এসে ফসলের ক্ষতি করছে।

দেশটির জাতীয় বন্য উট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিভাগের দাবি, এই উটদের সংখ্যা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে প্রতি নয় বছরে সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্যও উট দায়ী। প্রতি বছর তাদের মলমূত্র থেকে যে পরিমাণ মিথেন গ্যাস বের হয় তা এক টন কার্বনডাই অক্সাইডের সমপরিমাণ।

কার্বনডাই অক্সাইড নিয়ন্ত্রণে কাজ করা কার্বন ফার্মিং স্পেশালিস্টস রিজেনকোর প্রধান নির্বাহী টিম মুরে বলেন, এক মিলিয়ন উট প্রতিবছর এক টনের সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। অর্থাৎ, ৪ লাখ গাড়ি থেকে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, সেই পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড সৃষ্টির জন্য দায়ী উট। অবশ্য দেশটির জ্বালানি ও পরিবেশ বিভাগ বলছে, বন্য উটগুলো যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করছে, তা দেশের হিসাবে আসবে না। কারণ তারা গৃহপালিত না।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *