ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি,অসময়ে ঝড়-বৃষ্টিতে!

অসময়ের ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিতে রংপুর নগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে আমন ধান ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেত থেকে দ্রুত পানি না সরলে বড় ধরনেরর ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা।সরেজমিনে নগরীর তামপাট, দর্শনা, পশুরাম, ময়নাকুড়ি, সাহেবগঞ্জ, নাছনিয়াসহ জেলার কাউনিয়া, পীরগাছা, মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধানের পাকা ক্ষেত, আধা পাকা ধানের গাছ নুয়ে মাটিতে পড়ে আছে। ক্ষেতে পানি জমে রয়েছে। অনেক কৃষক তাদের ফসল বাঁচাতে ক্ষেত থেকে আগাম ধান কাটা শুরু করেছেন।রংপুর কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ছয় লাখ পাঁচ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়ো বৃষ্টিতে আমান ধানের ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ গ্রামের নুর আলম ও সাব্দি গ্রামের কৃষক মাজেদা বেগম বলেন, আর ১০-১৫ দিন পর ধান পাকতে শুরু হতো। কিন্তু অসময়ে বৃষ্টি ও প্রচণ্ড দমকা বাতাসে তাদের ক্ষেতের প্রায় ৯০ শতাংশ জমির আমন ধানের গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এতে তারা ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখিন হবেন।

নগরীর তামপাট এলাকার কৃষক নুর ইসলাম ও আশরাফুল আলম নেতা জানান, হঠাৎ ঝড় বৃষ্টিতে তাদের ধান ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতি বছর সাধারণত এক বছরের খোরাক বাবদ ধান মজুত রেখে বাকিটা বিক্রি করেন। কিন্তু এবার বিক্রিতো দূরে থাক, খোরাকের জন্য ধান রাখতে পারবেন কি না, তা জানেন না তারা।এই কথা শুধু নুর ইসলাম, আশরাফুলের নয়, একই রকম কথা জানালেন ক্ষতিগ্রস্ত নগরীর হোসেন নগর, পায়রাবন্দ, দর্শনা এলাকার বেশ কয়েক কৃষক।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক ড. সরোয়ারুল হক জানান, অসময়ে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে মাটিতে নুয়ে পড়া ধানক্ষেতে উৎপাদনে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে ক্ষেত থেকে দ্রুত পানি সরে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমবে। ঝড়ে আমন আবাদের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো সঠিকভাবে নিরুপণ করা যায়নি।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *