বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের অবমাননা রাষ্ট্রদ্রোহিতার নামান্তর

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর এবং তাকে অবমাননা করে দেওয়া বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সরকারের সাবেক ১০১ সচিব। নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর কেবল ধৃষ্টতা নয়, বরং রাষ্ট্রদ্রোহিতার নামান্তর উল্লেখ করে এই কর্মকাণ্ডে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন একদল সাবেক আমলা।প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রেস সচিব, সাবেক প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম শামীম চৌধুরীর স্বাক্ষরে সরকারের সাবেক ১০১ সচিব সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।

সেখানে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতির পিতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিটি স্পন্দনে আমরা বঙ্গবন্ধুকে খুঁজে পাই।‘আমাদের অস্তিত্বের অপর নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ এক এবং অভিন্ন স্বত্ত্বা। বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে অবমাননার সমার্থক।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, একটি স্বার্থান্বেষী, সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী ও উগ্র জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যশিল্পের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং তার ভাস্কর্যের অবমাননার অপচেষ্টা করছে।শুধু তাই নয়, তারা কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে যা কেবল ধৃষ্টতা নয়, বরং রাষ্ট্রদ্রোহীতার নামান্তর।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আমরা বিশ্বাস করি, এই সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী ও উগ্র জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী ‘৭৫-এর ঘাতকদের দোসর। আমরা অবিলম্বে এই ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত সন্ত্রাসীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি। একইসঙ্গে ভাস্কর্যশিল্প তথা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থানকারী মৌলবাদের মূলোৎপাটনের উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।কুষ্টিয়া শহরে নির্মাণাধীন জাতির জনকের ভাস্কর্য ভাঙচুরের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সচেতন ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন সরকারের সাবেক ১০১ আমলারা।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *