বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুতে ‘নীরব দর্শক’ জাতীয় পার্টি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে সবর হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ইস্যু নিয়ে যখন সরগরম রাজপথ তখনই এ ইস্যুতে নীরব ভূমিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)।রাজধানীর ধোলাইপাড় মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্যকে মূর্তি সঙ্গে তুলনা করে তা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলামসহ কট্টরপন্থী কয়েকটি ইসলামী দলের নেতারা।

 

 

তবে সরকারি দল আওয়ামী লীগসহ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলছে, ভাস্কর্যের সঙ্গে মূর্তির কোনও সম্পর্ক নেই। ভাস্কর্য হচ্ছে শিল্প-সাহিত্য ও ঐতিহ্যের অংশ। ভাস্কর্যবিরোধীরা ধর্মের অপব্যাখা দিচ্ছে। ভাস্কর্যকে মূর্তি বলা হচ্ছে ধর্মীয় কারণে নয়, রাজনৈতিক কারণে। অনেক ইসলাম প্রধান দেশেও ভাস্কর্য রয়েছে। ভাস্কর্য নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হয়ে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।এদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, এদেশের মানুষ ধর্মপরায়ন কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো ভাস্কর্য নিয়ে নোংরা রাজনৈতিক খেলায় নেমেছে। ভাস্কর্যের বিরোধীতার আড়ালে বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে অযৌক্তিকভাবে প্রোপাগান্ড চালাচ্ছে একটি মহল।

 

 

ভাস্কর্য ইস্যুতে সবর হতে শুরু করেছে দেশের বাম রাজনৈতিক দলগুলোও। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ চেয়ে ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।হেফাজতসহ ইসলামী দলগুলোর এমন দাবি বিষয়ে সরগরম যখন রাজনৈতিক অঙ্গন, তখন নিরব দর্শকের ভূমিকায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে রয়েছে এ দলটি। জাতীয় পার্টির পক্ষে থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুতে কোনও বিবৃতি বা কোনও কথা বলেননি দলটির নেতারা। জাতীয় পার্টির এ নিরবতা নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গণে।বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নিয়ে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে দলের লোকদের সঙ্গে আলাপ করে কথা বলবো। এটা এখন জাতীয় ইস্যু হয়ে গেছে। আলাপ না করে কথা বলতে চাই না।’

 

 

একই বিষয়ে দলটির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। এটা মীমাংসিত বিষয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কারও তুলনা হয় না। বাঙালি জাতি হাজার বছর ধরে পরাধীন ছিলো। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংগীত ও দেশের পতাকা নিয়ে কোনও আপোষ নেই।’

 

 

উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে এক সমাবেশ থেকে ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর নামে নির্মাণাধীন ভাস্কর্যকে ‘মূর্তি’ আখ্যা দিয়ে তা অপসারণের দাবি তুলে আন্দোলন নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন। একই দিন এ দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করে আসা হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হকও। তিনি প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করেন। এর আগেও হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের অব্যাহত দাবির মুখে ২০১৭ সালের ২৬ মে মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে সরানো হয়েছিল জাস্টিস লেডির ভাস্কর্য।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *