মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা কি জায়েজ?

আমাদের সমাজে একটা প্রথা প্রচলিত আছে যে, কোন মানুষ মারা গেলে জানাজায় অংশ নেয়া মানুষদেরকে তিনদিন পরে দাওয়াত করে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনেকে আবার দিন হিসেবে সাত, কেউ বা চল্লিশ দিন আবার অনেকে বছরের মাথায় মৃত ব্যক্তির জন্য মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এই প্রথাটি বহুল প্রচলিত হলেও ইসলাম এটিকে জায়েজ বা স্বীকৃতি প্রদান করে না।পরম করুণাময় আল্লাহু তায়ালা কোরআনে কারিমে বলেছেন, মানুষ মরে গেলে সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি কাজ চলতে থাকে। সেগুলো হচ্ছে- সদকায় জারিয়া, ইসলামিক জ্ঞান এবং নেক সন্তান যদি মা-বাবার জন্য দোয়া করে যায় তাহলে সেই দোয়া। আল্লাহ তায়ালা এই দোয়া কবুল করেন।

তবে মৃত ব্যক্তির জন্য বছরের যেকোনো দিন যেকোনো ভালো আমল দ্বারা ইসালে সওয়াব করা একটি ভালো কাজ। নগদ টাকা সদকা করা, বিনিময় ছাড়া তিলাওয়াত, তাসবিহ অথবা গরিব-মিসকিনদের খানা খাওয়ানো ইত্যাদির মাধ্যমে যেকোনো সময় ইসালে সওয়াব করা যায়।কিন্তু দিন-তারিখ নির্ধারিত করে যথা : তিন দিনা, সাত দিনা, চল্লিশ দিনা বা মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা নব আবিষ্কৃত কুপ্রথা, যা শরীয়তসম্মত না হওয়ায় বর্জনীয়। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৪০, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১/৪৩৯-৪৪৭)

বাড়িতে হুজুর ডেকে, কোরআন খতম করিয়ে দোয়া চাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং আপনি নিজেই দোয়া করুন যে, আল্লাহ আপনি আমার মা-বাবাকে মাফ করে দিন, জান্নাত নসিব করুন। এই সব দোয়া আপনি প্রতিনিয়ত করতেই থাকুন।আমাদের প্রিয় রাসুল (সা.) জীবনীতে, সাহাবায়ে কেরামের জীবনীতে এটা নেই যে, কেউ মারা গেলে তার জন্য কোরআন তিলাওয়াত করা হবে। তাই আপনিই আপনার মা-বাবা, আত্মীয়স্বজনের জন্য দোয়া করুন। এটি হচ্ছে সহিহ সুন্নাহ দ্বারা সমর্থিত।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *