যারা দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরপর দুইবার ক্ষমতায় থাকতে পারেন একজন ব্যক্তি। প্রায় সব প্রেসিডেন্টই দ্বিতীয়বার জয়লাভ করেছেন। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও ঘটেছে বহুবার। আমেরিকার ইতহাসে এমন প্রেসিডেন্টও আছেন যারা দ্বিতীয়বার নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন। ২০২০ সালে মার্কিন নির্বাচনে জনমত সমীক্ষা বলছে ডোনাল্ড ট্রাম্প হেরে যেতে পারেন। ভোটের ফলাফল এখন পর্যন্ত যা মিলেছে, তাতে লড়াই হচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি। তবে যদি জনমত সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী ট্রাম্প হেরে যান তাহলে রেকর্ড তৈরি হবে। একুশ শতকে প্রথম কোনা ব্যক্তি পর পর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট  হতে পারবেন না।দেখে নেওয়া যাক ইতিহাস-বারাক ওবামা: ২০১৬ সালে ট্রাম্প জেতার আগে প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা। তিনি প্রথম জিতেছিলেন ২০০৮ সালে। দ্বিতীয় বার ক্ষতায় এসেছিলেন ২০১২ সালে।
জর্জ ডাব্লিউ বুশ: ১৯৯২ সালে শেষবার দ্বিতীয় নির্বাচনে হেরেছিলেন বুশ সিনিয়র। পরবর্তীকালে তার ছেলে জর্জ ডাব্লিউ বুশ জুনিয়র দুইবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ক্ষমতায় এসে গাল্ফ ওয়ার বা উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। উপসাগরীয় যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনতার মনে দেশপ্রেম জাগলেও অর্থনৈতিক ভাবে সে সময় অ্যামেরিকা কঠিন সমস্যার সম্মুখিন হয়েছিলেন। যে কারণে তিনি আমেরিকার মানুষের মনে দ্বিতীয়বা জায়গা করে নিতে পারেননি।
উইলিয়াম টাফট:  ১৯১৩ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন উইলিয়াম টাফট। উড্রো উইলসনের সামনে কার্যত উড়ে গিয়েছিলেন তিনি। প্রথমবারেও রুসভেল্টের সাহায্যেই নির্বাচনে জয় লাভ করেছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় রুসভেল্টের সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্য হয় তার। যে কারণে রুসভেল্টের অঙ্কেই দ্বিতীয় দফায় উড্রো উইলসনের কাছে হেরে যান তিনি।হার্বাটু হুভার: ১৯২৯ সালে ৩১তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন হার্বার্ট হুভার। তিনি ক্ষমতায় আসার পরেই অ্যামেরিকায় সব চেয়ে বড় স্টক মার্কেট ক্র্যাশ হয়। সেই ঝড় সামলাতে পারেননি প্রেসিডেন্ট। দ্বিতীয়বার হেরে যান রুসভেল্টের কাছে।
জিমি কার্টার: ৩৮তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট গেরাল্ড ফোর্ড এবং ৩৯তম প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারও দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্টের সিংহাসন দখল করতে পারেননি।
উল্লেখ্য, মার্কিন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যেমনটা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন ফলাফলে তারই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয় কে হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে আরও অপেক্ষা করতে হবে। কয়েকটি রাজ্যের ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই হচ্ছে। তবে ট্রাম্প হেরে গেলে ১৯৯২ সালের পরে ফের কোনো প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয়বার সিংহাসন দখল করতে পারবেন না।আপাতত সব হিসাবেই বাইডেন এগিয়ে থাকলেও ওই ৫ রাজ্যের সবকটিতে যদি ট্রাম্পের জয় হয় তবে বাইডেন শিবিরের বিজয়ী হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ ট্রাম্পের দরকার আরও ৫৬টি ইলেকটোরাল ভোট। ওই ৫টি অঙ্গরাজ্যে মোট ইলেকটোরাল ভোট আছে ৬০টি। সবগুলো যদি ট্রাম্প পেয়ে যান তবে তার মোট ইলেকটোল ভোট হবে ২৭৪টি। আর তখন বাইডেনের চেয়ে ১০টি ইলেকটোরাল ভোট বেশি হয়ে যাবে ট্রাম্পের।এদিকে ইউএসএ টুডে’র সবশেষ নির্বাচনী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পও পিছিয়ে থাকলেও ওই ৫ রাজ্যের দিকে তাকিয়ে এখনও আশা ছাড়েননি। ৫ রাজ্যের মধ্যে ৪টিতেই এগিয়ে আছেন তিনি। এরমধ্যে শুদু নেভাদায় এগিয়ে বাইডেন। নেভাদা যদি ডেমোক্র্যাটদের দখলে চলে যায় তবে ট্রাম্পের আশার প্রদীপ নিশ্চিত নিভে যাবে। সেক্ষেত্রে বাইডেন ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে যাবেন।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *