যে কারণে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতবে বার্সা

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বাকি রয়েছে আর ৮টি মাত্র দল। বাদ পড়ে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল, টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ী দল রিয়াল মাদ্রিদও। চমক দেখিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে আরবি লেইপজিগ, আটলান্টা, অলিম্পিক লিওনের মতো ক্লাবগুলো।

তবে বড় দল যে নেই কোয়ার্টারে এমনটাও নয়। বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, ম্যানচেস্টার সিটি, প্যারিস সেইন্ট জার্মেই এবং অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদও রয়েছে শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে। যেখানে মুখোমুখি লড়াইয়ে মাঠে নামবে অন্যতম ফেবারিট দুই দল বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ।

আগামী শুক্রবার দিবাগত রাতে লিসবনে মাঠে নামবে বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ। এ ম্যাচটি জিতলেই নিজেদের ষষ্ঠ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা। কেননা বায়ার্নকেই ধরা হচ্ছে বার্সেলোনার জন্য সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।

রেকর্ড গড়ে টানা ১৩তম বার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা বার্সেলোনার শিরোপা জয়ের দারুণ সম্ভাবনা দেখছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা। তারা কারণও দেখিয়েছে কেনো এবার শিরোপা জিততে পারে বার্সেলোনা। সবশেষ ২০১৪-১৫ মৌসুমে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা ঘরে তুলেছি কাতালুনিয়ান ক্লাবটি।

এবার যে কারণে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে বার্সেলোনা

লিওনেল মেসি:

দলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি নিজের সেরা ছন্দের ছাপ রাখতে পারলেই বায়ার্ন বাধা টপকে যেতে পারবে বার্সেলোনা। নাপোলির বিপক্ষে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটিতে প্রথম হাফেই নিজের জাদু দেখিয়েছিলেন মেসি। এমনকি বায়ার্নের বিপক্ষেও ২০০৯ এবং ২০১৫ সালে জাদুকরি পারফরম্যান্স করেছিলেন এ আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার। এবারও একই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন বার্সেলোনার।

কার্যকরী মিডফিল্ড:

কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে নাপোলির বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি খেলতে পারেননি দলের অন্যতম দুই ভরসা সার্জিও বুসকেটস এবং আর্তুরো ভিদাল। তবে বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই দলে ফিরছেন তারা। এতে করে নিজের কৌশল নিয়ে আরও পরীক্ষা চালাতে পারবেন বার্সা কোচ কিকে সেতিয়েন। ম্যাচে দেখা যেতে পারে ওসুমানে ডেম্বেলেকে। এছাড়া অ্যান্তনিও গ্রিজম্যান, সার্জিও রবার্তো এবং ইভান রাকিটিচদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাতে পারবে বার্সেলোনা।

ফর্মে ফিরেছেন ফ্র্যাংকি ডি ইয়ং:

নাপোলির বিপক্ষে ম্যাচে মিডফিল্ডে আলো ছড়িয়েছেন ডাচ মিডফিল্ডার ফ্র্যাংকি ডি ইয়ং। ম্যাচটিতে নাপোলির অর্ধে ৯৩ শতাংশ পাস যথাযথ দিয়েছেন ডি ইয়ং। যা কি না আক্রমণভাগে থাকা খেলোয়াড়দের আরও বেশি জায়গা করে দিয়েছে আক্রমণ সাজানোর জন্য। ডি ইয়ংয়ের এমন পারফরম্যান্স বজায় থাকলে আর্থুর মেলোর অভাববোধ করবে না বার্সেলোনা।

টুর্নামেন্টের ফরম্যাট:

সাধারণত চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালব্যতীত বাকি সব রাউন্ডই হয় দুই লেগ ভিত্তিতে। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের কারণে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল ম্যাচ হবে এক লেগেই। যা কি না বাড়াবে বার্সেলোনার সুযোগ। সার্জিও রবার্তো এই ফরম্যাটের বিষয়ে বলেছেন, ‘খেলার এই ফরম্যাটে কোনো দলই ফেবারিট নয়।’

রক্ষণভাগের দৃঢ়তা:

কিকে সেতিয়েনের দলের জন্য গোলরক্ষক মার্ক টের স্টেগান, ক্লেমেন্ত লংলে এবং জেরার্ড পিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তিন খেলোয়াড়। ম্যানুয়েল নয়্যারের দলের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্য প্রমাণে মরিয়া থাকবেন জার্মান স্টেগান। অন্যদিকে পিকে এবং লংলে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার অন্যতম ধারাবাহিক দুই পারফরমার। বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচটিতেও তাদের ওপর থাকবে গুরুদায়িত্ব।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *