যে কারণে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ হাতি

প্রচণ্ড খরা ও খাবারের অভাবে বন্য হাতির দল ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। এই পরিস্থিতিতে হাতিদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে আফ্রিকান দেশ নামিবিয়া। দেশে হাতির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যার ফলে বাড়ছে মানুষের সঙ্গে হাতির সংঘর্ষ। ১৯৯৫ সালে নামিবিয়ায় হাতির সংখ্যা ছিল ৭,৫০০। সেখানে ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪,০০০। তাই দেশটি ঠিক করেছে, ১৭০টি বন্য হাতি নিলামে তুলবে তারা।

দেশটির পরিবেশ মন্ত্রালয় এ কথা জানিয়ে সরকারি এক সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনও দিয়েছে। বলা হয়েছে, চোরাশিকার ও পরিবেশগত কারণে হাতিরা এখন বিপন্ন, তাই এভাবে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা। নামিবিয়া বা বিদেশের যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের দেওয়া সব শর্ত পূরণ করবে, তাদের কাছেই হাতি বিক্রি হবে।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্তের মধ্যে রয়েছে, করোনার মধ্যে হাতিদের কোয়ারেন্টাইনের সুবিধা ও যে জমিতে হাতি রাখা হবে, সেখানকার জন্য যেন তাদের গেম-প্রুফ ফেন্স সার্টিফিকেট থাকে। আর যদি কোনও বিদেশি হাতি কিনতে উৎসাহী হন, তবে প্রমাণ দেখাতে হবে যে তার দেশের প্রশাসনের ওই হাতি আমদানির ব্যাপারে কোনও আপত্তি নেই।

অন্যান্য দেশের মত নামিবিয়াও হাতি ও গণ্ডারের মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীগুলিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। জঙ্গল, ঘাসজমি কমে আসা, খরা, খাবারের অপ্রতুলতা ও পরিবেশ পাল্টে যাওয়ার মত নানা কারণে এসব প্রাণি লোকালয়ে এসে পড়ছে, যার ফলে ঘটছে সংঘর্ষ।

হাতি বাঁচাতে আন্তর্জাতিক অর্থসাহায্য পায় দেশটি। যদিও গত বছর তারা জানিয়ে দিয়েছে, বিপন্ন জন্তুদের বাঁচাতে যে আন্তর্জাতিক নিয়ম রয়েছে সেখান থেকে তারা নিজেদের সরিয়ে নিতে চায়। বিপন্ন জন্তুর শিকার বা বিদেশে রফতানিতে তাদের আপত্তি নেই, এর ফলে যে অর্থ উঠবে, তাতে ওই সব জীবজন্তুর রক্ষণাবেক্ষণ হবে বলে তাদের দাবি।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *