যে সাহাবীর দাফনে ঘাস দিয়ে ঢাকতে হয়েছে পা

ইসলামের প্রথম সারির একজন মুসলমান মুসআব ইবনে উমাইর। তিনি পিতা-মাতার পরম আদরে ঐশ্বর্যের মধ্যে লালিত মক্কার অন্যতম সুদর্শন যুবক ছিলেন। মা সম্পদশালী হওয়ার কারণে অত্যন্ত ভোগ বিলাসের মধ্যে তাকে জীবন-যাপন করতে হয়।তখনকার যুগে মক্কার যত রকমের চমৎকার পােশাক ও উকৃষ্ট খুশবু পাওয়া যেত তা সবই মুসআব ব্যবহার করতেন। তিনি যে রাস্তা দিয়ে যেতন তার খুশবু এতই ঘ্রাণ ছিল সকলে বুঝতো এ রাস্তা দিয়ে মুসআব গিয়েছিলেন।

মুসআব ইসলামের প্রথম যুগেই মুসলমান হন। উহুদের যুদ্ধে মুসআব মুসলমানদের ঝাণ্ডা বহন করেন। মুসলমানরা যখন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। মুসআব তখন অটল হয়ে রুখে দাঁড়ান। অশ্বারােহী ইবন কামীয়া তার দিকে এগিয়ে এসে তরবারির এক আঘাতে তার ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। মুসআব তখন বলেন- “অমা মুহাম্মাদুন ইল্লা রসুল কদ খলাত মিন কবলিহি রসুল” মুহাম্মদ একজন রাসুল ছাড়া আর কিছুই নন এরপর তিনি বাম হাতে ঝাণ্ডা তুলে ধরেন।

এরপর মুসআবের বাম হাত কেটে ফেলেন তখনও মুসআব একই কথা বলতে বলতে ঝাণ্ডার উপর ঝুকে পড়ে দুই বাহু দ্বারা সেটি তুলে ধরেন। এরপর তার প্রতি বর্শা নিক্ষেপ করা হয়। পতাকাসহ তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন এবং শাহাদত বরণ করেন। মুসআব শাহাদাতের পূর্বে যে বাক্যটি পড়েছিল পরবর্তিতে আল্লাহ তায়ালা সেটি কোরআনের আয়াত হিসেবে নাজিল করেন। উহুদের এ ঘটনার পর জিবরাইল (আ.) এ আয়াতটি নিয়ে উপস্থিত হন।

ওহুদে মুসআব হবনে উমায়েরের শাহাদাতের পর দাফনের সময় কাপড় কম পড়ে যায়। মাথা ঢাকলে পা, আর পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যায়। এমতবস্থায় সাহাবা কেরাম রাসুল (স.) কে বললে তিনি কাঁদতে থাকেন আর বলেন- চাদর দিয়ে মাথার দিক দিয়ে যতটুকু ঢাকা যায় ঢেকে দাও, বাকি পায়ের দিক ‘ইযখীর’ ঘাসি দাও।এরপর রাসুল তার দাফনের চাদরটির দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি তোমাকে মক্কায় দেখিছি। সেখানে তোমার চেয়ে কোমল চাদর এবং সুন্দর যুলফী আর কারও ছিল না। আর আজ তুমি এখানে এই চাদরে ধুলি মুলিন অবস্থায় পড়ে আছ।

রাসুল আরও বলেন, আল্লাহর রাসুল সাক্ষ্য দিচ্ছে, কিয়ামতের দিন তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে সক্ষ্যদানকারী হবে। তরপর সঙ্গীদের দিকে ফিরে তিনি বলেন- ওহে জনমণ্ডলী! তোমরা তাদের যিয়ারত কর, তাদের কাছে এস। তাদের ওপর সালাম পেশ কর। যার হাতে তোমার সেই সত্তার সপথ! কিয়ামত পর্যন্ত যে কেউ তাদের ওপর তাদের ওপর সালম পেশ করবে তারা সেই সালামের জওয়াব দেবে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *