রাওয়ালপিণ্ডি ছেড়েছি ভারতের দালালি করতে নয়: ডা.জাফরুল্লাহ

ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে’ অভিযোগ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘সকলের প্রতি আমার আহ্বান, সকলে সম্মিলিতভাবে গণতন্ত্র উদ্ধার করবো। আমরা রাওয়ালপিণ্ডি (পশ্চিম পাকিস্তানের তৎকালীন রাজধানী) ছেড়েছি ভারতের দালালি করার জন্য নয়। ভারত বিভিন্নভাবে এদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এসব থেকে মুক্তির একমাত্র পথপ্রদর্শক মওলানা ভাসানী। তাঁর পথেই আমরা অগ্রসর হবো। তার সাহসেই এ জাতীর মুক্তি।’মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সর্ব ধরনের স্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকা একমাত্র রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন ডা. জাফরুল্লাহ।
মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) টাঙ্গাইলে ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘জনগণের কথা ভেবেছেন। তিনি আমাদের মুক্তি আন্দোলন শিখিয়েছেন। স্বাধীনতার অর্থ জানিয়েছেন। দুর্ভাগ্য, আমরা তাঁর মতো সাহসী হইনি।’তিনি আরও বলেন, ‘মাওলানা ভাসানীর কাছে আমাদের একটিই আবেদন, আমাদেরকে সাহস দাও। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তোমার পথ অনুসরণ করে রাস্তায় থাকবো।’তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, সরকার আমাদের সবার কণ্ঠরোধ করে রেখেছে। গণতন্ত্র কবরে শায়িত। কেবল এটাকে মাটি দেয়ার অপেক্ষায়। যদি আমরা গণতন্ত্রকে বাঁচাতে চাই, তাহলে সবার সম্মিলিত আন্দোলন করা ছাড়া কোনও উপায় নাই। আজ চারিদিকে যে অরাজকতা, বাংলাদেশকে যেভাবে মাফিয়া জগতে নিয়ে যাচ্ছে, আমরা ভারতের সিকিমে পরিণত হয়ে যাবো।’৭১ এর রণাঙ্গণের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘কিছু লোক খাবে কিছু লোক খাবে না, তা হবে না। সবার মুক্তি একমাত্র গণতন্ত্রে, জবাবদিহিতাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র কবরে শুয়ে আছে। এখন কেউ হরিবোল বলে আগুন দিবে নাকি মাটি দিবে এটার অপেক্ষায় আছে। আমাদের উচিত হবে জীবন্ত গণতন্ত্র ফেরানো। আমরা সেই গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা দেখতে চাই। মানুষের কথা বলা অধিকার দেখতে চাই।’এসময় ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, আক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ হোসেন, জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, কৃষক দল কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *