সুজিঃ বাচ্চার জন্য মন্দ না ভালো খাবার?

সুজি নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি। অনেক ডাক্টাররা বলেন এটা মন্দ খাবার কিন্তু নানি-দাদিরা বলেন, এটা খেলেই তো বাচ্চার পুষ্টি হবে। সুজি সহজে রান্না করা যায়, বাচ্চারাও খায়, তাই অনেক মায়েদের দেখা যায় খিচুড়ীর চেয়ে সুজিই তাদের পছন্দ। এর সাথে তারা চালের গুড়ো আর চিনিও মিশিয়ে থাকে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, সুজি+চালের গুড়ো+চিনি, বস্তুত এই তিনটিই শর্করা  বা কার্বোহাইড্রেট। কার্বোহাইড্রেট বেশি গ্রহন করলে শরীরের Onecotic pressure কমে যায়। কারণ Onecotic pressure – এর জন্য অনেকাংশে প্রোটিন দায়ী আর প্রোটিন কম খেলে বা আদৌ না খেলে শুধু কার্বোহাইড্রেট খেলে Onecotic pressure কমে যায় তখন পানি বা তরল কোষের বাইরে চলে এসে চামড়ার নিচে জমা হয়ে ইডিমার সৃষ্টি করে। অনেকে এটা দেখে মনে করেন যে বাচ্চা বেশ মোটাসোটা হচ্ছে। আসলে এই বাচ্চা তো রোগে ভুগছে। তাই শুধু সুজি বা চালের গুড়োর সাথে সুজি কোন মতেই ভালো খাবার নয় কিন্তু এই সুজিই যদি, ডিম, দুধ আর ঘি/তেল দিয়ে রান্না করা হয় তখন তা হয়ে যাবে একটি উতকৃষ্ট খাবার।

নিচে সুজির পুষ্টি গুণ দেয়া হলঃ

  • জলীয় অংশ ১৩ গ্রাম
  • ক্যালরি ৩৪৮ গ্রাম
  • প্রোটিন ১০ গ্রাম
  • ফ্যাট/চর্বি ০.৮০ গ্রাম

ক্যালসিয়াম ১৬ গ্রাম

  • আয়রন ১.৬ গ্রাম
  • ভিটামিন বি১ ০.১২ গ্রাম
  • বি২ ০.০৩ গ্রাম
  • নিয়ামিন ১.৬ গ্রাম

তাই বলা যায় সুজিতে অনেক উপকারি উপাদান রয়েছে। রান্না করার সময় দুধ,ডিম, ঘি ইত্যাদি উপযুক্ত মিশ্রন যোগ করলেই এটি পুষ্টিকর খাবার হবে। কিন্তু চালের সুজি বা চিনি দিয়ে সুজি রান্না করে খাওয়ানো মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

ডাঃ আবু সাঈদ শিমুল

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *