হাজরে আসওয়াদ ‘জান্নাতি পাথর’ নাকি ভাস্কর্য?

হাজরে আসওয়াদ (আরবিতে الحجر الأسود‎‎) যার অর্থ- কালো পাথর। এই পাথরটি কাবা শরিফের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মাতাফ থেকে দেড় মিটার (চার ফুট) উঁচুতে অবস্থিত। বেহেশতের মর্যাদাপূর্ণ একটি পাথর। হজযাত্রীরা হজ করতে গিয়ে এতে সরাসরি বা ইশারার মাধ্যমে চুম্বন দিয়ে থাকেন। মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী এই পাথর আদম ও হাওয়ার সময় থেকে পৃথিবীতে রয়েছে।

সম্প্রতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে দেশে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি নির্ভর ভাস্কর্যগুলোর সংখ্যা দেশে অনেক। বঙ্গবন্ধুরও রয়েছে অসংখ্য ভাস্কর্য। এই বিতর্কের মধ্যে দেশের শীর্ষ আলেমগন ভাস্কর্য আর মূর্তি- দুটো একই জিনিস হিসেবে ফতোয়া দিলেও ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগসহ দেশের বিশিষ্ট বৃক্তিবর্গ ভাস্কর্য আর মূর্তিকে আলাদা হিসেবে দেখছেন। তার বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যা প্রধান দেশগুলোতে থাকা ভাস্কর্যগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বোঝাতে চাচ্ছেন ভাস্কর্য আর মূর্তি আলাদা জিনিস। এমনকি হাজরে আসওয়াদকেও ভাস্কর্য দাবি করছেন।

এদিকে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নতুন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মু. ফরিদুল হক খান বলেছেন ‘ভাস্কর্য আর মূর্তি এক জিনিস নয়। ভাস্কর্য যদি মূর্তি হয়, তাহলে টাকার ভেতরে বঙ্গবন্ধুর ছবি আছে, আগে যারা ছিলেন তাদের ছবি ছিল, সেগুলো পকেটে নিয়ে তো সবাই ঘুরে বেড়ায়। মন্ত্রীর বক্তব্যে সঙ্গে সুর মিলিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মক্কা বিজয়ের পরে সব মূর্তি ভেঙে ফেলা হলেও একটি মূর্তি ভাঙা হয় না। সেটা খুব বড় এবং হাজীরা সেটাতে এখন চুমু দিতে যান। সেটাও তো একটা ভাস্কর্যই, একখানা পাথর খণ্ড।

তবে ইসলাম কি বলে? ‘হাজরে আসওয়াদ কি ভাস্কর্য নাকি জান্নাতি পাথর। এ নিয়ে হাদিসের গ্রন্থগুলোতে প্রচুর আলোচনা এসেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হাজরে আসওয়াদ একটি জান্নাতি পাথর, তার রং দুধের চেয়ে বেশি সাদা ছিল। এরপর বনি আদমের পাপরাশি এটিকে কালো বানিয়ে দিয়েছে।’ (জামে তিরমিজি : ৮৭৭, মুসনাদে আহমাদ।)হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের ফজিলত

হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা বরকতময়। রাসুল (সা) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন এ পাথর আবু কুবাইস পাহাড় থেকে বড় আকার ধারণ করে উপস্থিত হবে। তার একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট থাকবে, (বায়তুল্লাহর জিয়ারতকারীরা) কে কোন নিয়তে তাকে চুম্বন করেছে, সে সম্পর্কে বক্তব্য দেবে। ’ (ইবনে খুজায়মা : ৪/২২১, মুসতাদরাকে হাকেম : ১/৪৫৭)হাজরে আসওয়াদের ঐতিহাসিক তথ্যইসলামপূর্ব কোরাইশদের যুগে কাবা শরিফের গিলাফ যখন পুড়ে গিয়েছিল, তখন হাজরে আসওয়াদও পুড়ে গিয়েছিল। ফলে তার কৃষ্ণতা আরো বৃদ্ধি পায়।

রাসুলের নবুয়তপূর্ব সময়ে কাবা পুনর্নির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদ আগের স্থানে কে বসাবেন—এটি নিয়ে কোরাইশদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেধেছিল। তখন মহানবী (সা.) নিজের গায়ের চাদর খুলে তাতে হাজরে আসওয়াদ রেখে সব গোত্রপ্রধানকে চাদর ধরতে বলেন। গোত্রপ্রধানরা চাদরটি ধরে কাবা চত্বর পর্যন্ত নিয়ে গেলে নবী করিম (সা.) নিজ হাতে তা কাবার দেয়ালে স্থাপন করেন এবং দ্বন্দ্বের পরিসমাপ্তি ঘটান।

আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.)-এর শাসনামলে হাজরে আসওয়াদ ভেঙে তিন টুকরো হয়ে গিয়েছিল। ফলে তিনি তা রুপা দিয়ে বাঁধাই করেছেন। আর তিনিই সর্বপ্রথম হাজরে আসওয়াদকে রুপা দিয়ে বাঁধানোর সৌভাগ্য অর্জনকারী।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *