হিন্দুদের পোড়ানোর আগে মৃতের মাথায় লাঠির আঘাত করা হয় কেন?

একজন ব্যাক্তির শেষকৃত্যের মাধ্যমে তাকে পার্থিব জীবনের শেষ অধ্যায়টির পরিণতি দেয়া হয়। বিভিন্ন ধর্ম সেক্ষেত্রে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকে। যেমন মুসলমান ও খ্রিষ্টানরা মৃত ব্যাক্তিকে মাটিতে দাফন করে তেমনি হিন্দুরা আগুনে মৃতদেহটি পুড়িয়ে সৎকার করে। তবে হিন্দু ধর্মে মানুষ মারা গেলে কেন তার দেহ দাহ করা হয়? বা  মৃতদেহ দাহ করার আগে মৃতের মাথায় লাঠি দিয়ে জোরে আঘাত করা হয়? ধর্মটিতে কেন এই প্রথা প্রচলিত রয়েছে? এর পেছনে কি কারণ থাকে? বা ধর্মটির পবিত্র শাস্ত্র এই প্রশ্নের কি ব্যাখ্যা দিচ্ছে?

হ্যাঁ, এসব প্রশ্নের যথার্থ ‍উত্তর আছে। ধর্মটির অনুসারীরা আগুনকে পবিত্র বলে মনে। তারা বিশ্বাস করে যতক্ষণ না কিছু বাকি থাকে ততক্ষণ আগুন সবকিছু পুড়িয়ে ফেলে। আর সে কারনেই তাদের ধর্মমতে মৃতদেহকে আগুনে পুড়িয়ে ভষ্ম করা হয়। হিন্দু ধর্মের অনেক প্রথার মতো শেষকৃত্যের সময়ও অনেক প্রথা ও নিয়ম প্রচলিত রয়েছে। তেমনি মৃতদেহকে দাহ করার ঠিক আগে মৃতদেহের মাথায় একটা লাঠি দিয়ে জোরে মারাও সেই প্রথার অংশ। অনেকেই এই প্রথা পছন্দ না করলেও এর পেছনেও আছে শাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা।

শাস্ত্রমতে, হিন্দুরা বিশ্বাস করে যে কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পরেও তাঁর আত্মা রয়ে যায়, আত্মা অবিনশ্বর। তাই দাহ করার আগে খুলি ফাটিয়ে দিয়ে আত্মাকে দেহ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথ করে দেওয়া হয়। না হলে কোনও দুষ্ট তান্ত্রিক সেই আত্মাকে অশুভ কাজে ব্যবহার করতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন অনেকে।
এছাড়াও, হিন্দুদের মধ্যে একটি ঐতিহ্য রয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির দেহ পৃথিবী, আগুন, পানি, বাতাস এবং আকাশের পাঁচটি উপাদান দ্বারা গঠিত। হিন্দুদের শ্মশানে এই উপাদানগুলিতে দেহ ফিরিয়ে দেওয়ার দিকে পরিচালিত হয়। আকাশের নীচে দেহটি জ্বালিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে পৃথিবী, বায়ু, আকাশ এবং আগুনে ফিরে যায় এবং ছাই সম্মানের সাথে সংগ্রহ করা হয় এবং একটি নদীতে ভাসানো হয়। এটাই রীতি।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *